দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

‘আমরা মে দিবস বুঝি না, সব দিনই আমাদের কাছে সমান। কাজ করলে পেটে ভাত যায়, না করলে নাই। এতো বৃষ্টির মধ্যেও কাজে বের হয়েছি, পেট তো ঝড়-বৃষ্টি বোঝে না’—কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের সিতাইঝাড় এলাকার ধানকাটা শ্রমিক মিজানুর রহমান (৩৫)।
তিনি আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে কি, মে দিবস বুঝি না। কাজ করি, খাই, এইটাই জীবন।’
একই এলাকার আরেক শ্রমিক মাঈদুল ইসলাম বলেন, ‘আকাশ খুব খারাপ, বৃষ্টি হচ্ছে। তারপরও মাঠে কাজ করছি। এই আবহাওয়ায় কাজ করা খুব কষ্ট। কিন্তু কিছু করার নাই, কাজটাই যে আগে। আজ মে দিবস শুনলাম, কিন্তু এ দিবসে কী হয়, তা জানি না।’
শুধু মিজানুর বা মাঈদুল নন, কুড়িগ্রামের বিভিন্ন গ্রামীণ অঞ্চলে তাদের মতো হাজারো দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিক রয়েছেন, যারা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণাই রাখেন না। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনের শ্রমই তাদের কাছে মুখ্য; দিবস বা উৎসব তাদের জীবনে খুব একটা প্রভাব ফেলে না।
শহরের আনুষ্ঠানিকতা আর গ্রামের বাস্তবতার এই ব্যবধানই যেন স্পষ্ট করে দেয়—অনেক শ্রমিকের কাছে মে দিবস এখনও একটি অজানা দিন, যেখানে বেঁচে থাকার লড়াইটাই সবচেয়ে বড় সত্য।
অন্যদিকে, যথাযোগ্য মর্যাদায় কুড়িগ্রামে পালিত হয়েছে মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস। শুক্রবার (১ মে) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর, রংপুরের সহযোগিতায় কুড়িগ্রাম বিজয় স্তম্ভ প্রাঙ্গণে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও সচেতনতা বৃদ্ধি না হলে মে দিবসের তাৎপর্য পূর্ণতা পাবে না।
এমএস/